আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পুলিশ সদস্যরা যেন নিজেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মী না ভাবেন, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করেন তিনি।
সোমবার সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ‘হল অব প্রাইড’ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন,‘আইনের প্রয়োগ শুধু শক্তি দিয়ে নয়। ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী মাঠে আপনারা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নন; আপনারা জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক।’
সামনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও সংলাপ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন, বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা নেওয়া এবং নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ভাবা যাবে না।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সরাসরি জড়িত। তাছাড়া অনেক অপরাধী জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধ করছে। ফ্যাসিস্টদের অপকর্ম, অপপ্রচার, অপরাজনীতি, অপরাধ ও ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গ্রেপ্তার বাড়াতে হবে। তবে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না।’
ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অধীনস্থ পুলিশ অফিসার ও ট্রুপসদের পেশাদারিত্ব, টিম স্পিরিট, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে করতে হবে। অধীনস্থদের মধ্যে যাদের পেশাদারিত্ব নাই, শৃঙ্খলা নাই, কমান্ড মানতে চায় না, যারা সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
জেলা পর্যায়ে ঘন ঘন কোর কমিটির সভা আহ্বান করতে হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার, মিথ্যা মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করতে হবে। জেলার সব বিষয় রাখতে হবে নখদর্পণে।
থানা থেকে লুট হওয়া বা হারানো বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলার কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশের ওপর আক্রমণ কোনো অবস্থাতেই ‘সহ্য করা হবে না’ নিশ্চিত করে এ ব্যাপারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি সাইবার অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তরুণ পুলিশ অফিসারদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাগিদও দেন তিনি। পাশাপাশি অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন উপদেষ্টা।


