কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী থেকে আবারও দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাসহ চার বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
সোমবার দুপুরে নাফ নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার দিকে টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌকা দুটির মালিক আবছার ও নুরুল হাকিম।
তাদের দাবি, সকাল ৬টার দিকে দুটি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে চার জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। দুপুর ১২টার দিকে মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোডে অস্ত্রের মুখে দুটি মাছ ধরার নৌকা ও জালসহ তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
অপহৃত জেলেরা হলেন মো. মনির আহমেদ (৪৫), মো. ইয়াছিন (১৮), আব্দুল মালেক প্রকাশ শফা (৫০) ও মো. জামাল হোসেন (৪০)। তারা সবাই টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফ সদর এলাকার জেলে নুরুল বশর ও নেজাম জানান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীর সীমান্তবর্তী জলসীমায় মাছ ধরছিলেন ওই জেলেরা। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের জিম্মি করে মিয়ানমারের কাইচ্যং খালের দিকে নিয়ে যায়।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকার চারজন জেলেকে নাফ নদী থেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। তাদের দ্রুত উদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।’
টেকনাফ পৌর এলাকার জেলে সুলাইমান বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়া এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় সময়ই আরাকান আর্মির সদস্যরা নদীতে টহল দেয়। আজও জেলেরা মাছ ধরার সময় হঠাৎ স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে তাদের ধরে নিয়ে গেছে। এতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির অপহরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবিকার তাগিদে নদীতে গেলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন অনেক জেলে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘নাফ নদী থেকে চার বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’
এর আগে, গত ৯ মে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে দীর্ঘ সমন্বয় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনে বিজিবি।
তবে নতুন করে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী জনপদে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপহৃত জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


