কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীতে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি এক জেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা স্থলমাইনটি পুঁতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে নাফ নদীর শাহজাহানের দ্বীপ ও হাঁসের দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জেলের নাম মোহাম্মদ হানিফ (২২)। তিনি হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকার ফজল করিমের ছেলে।
আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জাল ও নৌকা নিয়ে শাহজাহানের দ্বীপ এলাকায় মাছ ধরতে যান হানিফ। এ সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ হয়। এতে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
আহত হানিফের বাবা ফজল করিম বলেন, ‘আমার ছেলে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে তার বাম পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্য পায়েও গুরুতর জখম হয়েছে।’
আহত হানিফকে উদ্বার করে এলাকায় নিয়ে এলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। আধা ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে নাফ নদীর শাহজাহানের দ্বীপ এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মোহাম্মদ হানিফ নামের এক জেলে গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ- পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, খবরটি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে রবিবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় আফনান (৯) নামে এক শিশু। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদিনই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কে আছেন তারা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, ‘গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।’
বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’


