ইতিহাস গড়ার আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত জিততে পারল না বাংলাদেশ। একশ পেরোতেই ইংল্যান্ডের ৬ উইকেট নিলেও পরে আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তাই আশাভঙ্গের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো তাদের।
গুয়াহাটিতে মঙ্গলবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৪ কাছে উইকেটে হারল বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে সোবহানা মোস্তারি ও রাবেয়া খানের ব্যাটে ১৭৮ রানের মাঝারি পুঁজি পায় তারা। জবাবে হিদার নাইটের অপরাজিত ফিফটিতে ২৩ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় ইংলিশরা।
অথচ এক পর্যায়ে মাত্র ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় ধুঁকছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে শার্লি ডিনকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৭৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জেতান নাইট। তিনি নিজেও ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
দুই ম্যাচে বাংলাদেশের এটি প্রথম পরাজয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল জ্যোতির। পরপর দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে ইংল্যান্ড।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন সোবহানা ও রাবেয়া। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ৬০ রানের ইনিংস খেলেন সোবহানা। আর শেষ দিকে ঝড় তুলে মাত্র ২৭ বলে ৪৩ রান করেন রাবেয়া।
বল হাতে শুরুতেই ২ উইকেট নেন মারুফা আক্তার। পরে চমৎকার বোলিং করে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন ফাহিমা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ২৫ রানের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান আগের ম্যাচের নায়ক রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক ও অধিনায়ক জ্যোতি।
পরে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন সোবহানা ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। তবে ৩৪ রানের বেশি বড় হয়নি এই জুটি। ১০ রান করে আউট হন বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে থাকা সুপ্তা।
এরপর আর তেমন সঙ্গ পাননি সোবহানা। একার লড়াইয়ে ১০৮ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।
শেষ দিকে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৫৯.২৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৩ রানের ইনিংস খেলের রাবেয়া। বাংলাদেশের হয়ে ন্যুনতম ২০ বল বা ৩০ রানের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট।
ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন। এছাড়া চার্লি ডিন, অ্যালেক্স ক্যাপ্সি ও লিনসে স্মিথ নেন ২টি করে উইকেট।
রান তাড়ায় শুরুতেই মারুফার সুইংয়ের সামনে পড়ে ইংল্যান্ড। অল্পেই ফিরে যান অ্যামি জোন্স ও ট্যামি বাউমন্ট। তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ে শুরুর চাপ সামাল দেন নাইট ও অধিনায়ক ন্যাট সিবার-ব্রান্ট।
একই ওভারে সিবার-ব্রান্ট (৩২) ও সোফি ডাংকলিকে (০) আউট করেন ফাহিমা। পরে অ্যামা ল্যাম্ব ও ক্যাপ্সি দ্রুত ফিরে গেলে জয়ের ভালো সম্ভাবনা জাগে বাংলাদেশের। কিন্তু নাইট ও ডিনের ব্যাটে মিইয়ে যায় সব আশা।


