পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নাফিজ সরাফাত, তার স্ত্রী আনজুমান আরা শাহিদ ও ছেলে রাহিব সাফওয়ান সরাফাতের নামে থাকা ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি রক্ষার জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডেপুটি ডিরেক্টর আফরোজা হক খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, নাফিজ সরাফাতের নামে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ৩০ দশমিক ৫৬৫ কাঠা জমি এবং নয়টি ফ্ল্যাট ও একটি ২০ তলা ফ্ল্যাট; আনজুমান আরা শাহিদের নামে ঢাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, ১৩ কাঠা জমি এবং গাজীপুরে ৮ দশমিক ২৫ ডিসিমাল জমি এবং রহিব সফওয়ান সরাফাতের নামে ঢাকায় সাতটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতসহ অন্যান্য অভিযোগে তদন্ত চলছে। সম্পদের সুরক্ষার জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা প্রয়োজন।
এর আগে, চলতি বছর ৭ জানুয়ারি সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের নাফিজ সরাফত ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বাড়ি, জমি ও ১৮টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নাফিজ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি গত বছরের ১৬ আগস্ট নাফিজের বিরুদ্ধে ব্যাংক দখল ও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ লোপাটের মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেরও অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
বিগত সরকারের আমলে আর্থিক খাতে অনিয়ম দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যাওয়া নাফিজ সরাফতের পুঁজিবাজারের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়।
জানা গেছে, গত এক দশকে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাফিজ সরাফাত হোটেল ব্যবসা, বিদ্যুৎ, মোবাইলের টাওয়ার, মিডিয়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছেন।
অনিয়ম আর ঋণ কেলেঙ্কারিতে ২০১৭ সালে ফারমার্স ব্যাংক বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ঘটে সে সময় চাপের মুখে চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
পরের বছর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ফারমার্স ব্যাংকের নাম হয় পদ্মা ব্যাংক।


