ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসছেন না। তার বদলে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেবে।
সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন চলছে, তার মধ্যেই ভারতের এই সিদ্ধান্ত এলো। নির্বাচনের ফলাফলের পর নরেন্দ্র মোদী এবং তারেক রহমান টেলিফোনে কথা বলেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, লোকসভার স্পিকারের এই অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ‘গভীর ও চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের’ প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধকারী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।
ঐ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের উত্তরণকে স্বাগত জানায়। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বকে একটি বিশাল গণম্যান্ডেট বা জনসমর্থন হিসেবে বর্ণনা করেন।
গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, পূর্বনির্ধারিত অভ্যন্তরীণ এবং কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মোদী ঢাকা সফর করতে পারছেন না। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে আসছেন এবং মঙ্গলবার মুম্বাইতে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সকল সরকার প্রধানকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর বাইরে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাইসহ অন্তত ১২টি দেশের নেতাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর কথা রয়েছে।


