বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
মন্ত্রিসভার গঠন, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বিএনপির অস্বীকৃতি, দেশে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নিজের উদ্বেগ জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি।’
‘ভোটের প্রক্রিয়া হয়তো সুষ্ঠু ছিল, কিন্তু ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে।’
নির্বাচন নিয়ে নানা আপত্তি থাকলেও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে এনসিপি ফলাফল মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান নাহিদ। আর সে কারণেই এনসিপির সংসদ সদস্যরা দুটি শপথই নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও বিএনপি শপথ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘এটি সংস্কার ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই সংসদের কোনো অর্থ নেই।’
তিনি ক্ষমতাসীন দলকে দ্রুত শপথ গ্রহণ এবং পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আমরা চাই, তা শুধু সংসদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। নির্বাচন আগে সবাই এতে একমত ছিল ‘
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি জনগণ যে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই।’
‘মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি। বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৬২ শতাংশের কাছে মোট ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।’
ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘কিন্তু যখন আপনার মন্ত্রিসভার অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী, তারা জনগণের স্বার্থ নয়, ব্যবসার স্বার্থই রক্ষা করবে।’
এসময় মন্ত্রিসভায় ঐতিহ্যবাহী জেলার প্রতিনিধিত্ব না থাকা, নারীর পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ অপ্রতুল হওয়ার প্রসঙ্গও টানেন।
তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যাকাণ্ড মামলার অভিযুক্ত এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে দেশের সর্বোচ্চ বাজেটের একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকজন মন্ত্রী বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদে দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কিছু অভিযোগ পরে প্রমাণিত হয়েছে।
নাহিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ‘খলিলুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনাতেও ভূমিকা ছিল।’
‘যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানে ছিলেন, তাকে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়াই নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।’
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি একপর্যায়ে খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি করেছিল, যা এনসিপি সমর্থন করেনি।


