আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর সাপাহারের আম এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। শুক্রবার ‘গ্রামীণ কৃষক এগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডেন বেঙ্গল ম্যাঙ্গো’ ব্র্যান্ড নামে প্রাথমিকভাবে ১ টন আম্রপালি আম যুক্তরাষ্ট্রের বার্কিং শহরে রপ্তানি করেছে।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ এগ্রো জানিয়েছে, রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রথমে প্রতিটি আমকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট করা হয়। এরপর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে আমগুলো প্যাকেজিং করা হয়েছে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ উদ্ভিদ সংনিরোধ কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও অনুমোদনের মাধ্যমে এই আম বিশ্ববাজারে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে মোট ১০ মেট্রিক টন আম্রপালি আম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। এ ছাড়া জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও আম পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গ্রামীণ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আহমদ আলী বলেন, ‘এটি শুধু একটি আমের চালান নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষকের পরিশ্রম এবং বিশ্ববাজারে আমাদের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য শুধু আম বিক্রি করা নয়, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বাংলার খাঁটি স্বাদ ও আস্থা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের বিশ্বাস, নওগাঁর আমের গুণগত স্বাদ বিশ্ববাসীকে আকৃষ্ট করবে।’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, গাছ থেকে আম নামানো থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের আগ পর্যন্ত কীভাবে মানসম্মত আম উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকে। যেসব কৃষক বিদেশে আম রপ্তানি করতে চান, তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে নওগাঁ থেকে বিভিন্ন দেশে মোট ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে, যা থেকে এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।
গত বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম।


