জিয়া পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনার পরিবারের মধ্যকার একটি অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি সিনিয়র সাংবাদিক নঈম নিজাম মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঘটনার অন্যতম সাক্ষী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাইয়ের ছেলে শামস এসকান্দার।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি প্রধান পয়েন্টগুলো বাদ দিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠার জন্য ঘটনাটিকে খুব টুইস্ট করে লিখেছেন। নিজে একজন সম্পাদক হয়ে অন্য একজন স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদককে নিয়েও একটা মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছেন।’
১৪ মে নঈম নিজাম নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘মাহফুজ আনামকে নিয়ে সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়ে শেখ হাসিনার দুঃখ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। তাতে তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে হাসিনার পরিবারের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা মীমাংসার উদ্দেশ্যে হাসিনার গাড়িতে করে সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়েছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ আনাম।
নঈম নিজামের দাবি, মাহফুজ আনাম তখন সাঈদ এসকান্দারের স্ত্রীর সঙ্গে হাসিনার মুখোমুখি আলাপ (সাঈদের স্ত্রীর অজান্তে) রেকর্ড করতে হাসিনার বিশেষ সহকারী মৃণাল কান্তি দাসকে পরামর্শ দেন।
নঈম নিজামের এই দাবির পর বিষয়টি নিয়ে চারদিকে আলোচনা, সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন ওঠে, একজন সাংবাদিক হিসেবে মাহফুজ আনাম ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার কথোপকথন রেকর্ড করতে কাউকে পরামর্শ দিতে নৈতিকভাবে পারেন কি না। তবে মাহফুজ আনাম এরই মধ্যে নঈমের ওই দাবিকে কাল্পনিক বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
সোমবার একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান সাঈদ এসকান্দারের ছেলে শামস এসকান্দার, যাকে নিয়েই সেদিন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান।
শামস এসকান্দার জানান, ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়ির চালকসহ তাকে মারধর করে। পরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
নঈম নিজামের নাম উচ্চারণ না করে শামস এসকান্দার বলেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আমাকে অপহরণের ঘটনাটি একজন সিনিয়র সাংবাদিক বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনার দিন আওয়ামী লীগের লোকজন আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং ছয় ঘণ্টার বেশি সময় একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের পর মুক্তি দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম, সেটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। কিন্তু সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেখানে প্রকৃত ঘটনা বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’
নঈম নিজামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি প্রধান পয়েন্টগুলা বাদ দিয়ে নিজের বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য ঘটনাটিকে খুব টুইস্ট করে লিখেছেন। নিজে একজন সম্পাদক হয়ে অন্য একজন স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদককে নিয়েও একটা মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছেন। কোনো কিছু লিখলে তার আরও ফ্যাক্ট ভেরিফাই করে লেখা উচিত। তাদের মতো রেসপন্সিবল মানুষের কাছ থেকে যদি এ রকম মিসলিডিং কথা পাওয়া যায়, তাহলে সেটা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়।’
শামস এসকান্দার জানান, ওই ঘটনার পর সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন হাসিনা। একই সঙ্গে বিষয়টি যেন বেশি দূর না গড়ায় সে অনুরোধও করেন তিনি।


