আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ শেষে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়েছে। হেনস্থা করা হয়েছে আরও অন্তত ১০ জনকে।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে।
পিটুনির শিকার সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। আহত হয়েছেন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বেশ কিছু ভিডিওতে জামায়াত নেতাকর্মীদের মারমুখো আচরণ চোখে পড়েছে। সংবাদকর্মীদের প্রশ্ন পছন্দ না হওয়ায় তাদেরকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’বলেও তেড়ে আসতে দেখা গেছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবার ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নেতারা লাপাত্তা বা গ্রেপ্তার থাকা অবস্থায় দলটির ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি আসে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তার জাল বিছিয়েছে সরকার। ঢাকাসহ দেশেল ছয়টি জেলায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, ১৮ হাজার পুলিশ সদস্যও তৎপর আছে মাঠে।
এই অবস্থায় জামায়াত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান থেকে জামায়াতের মিছিল বের হয়ে সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় জামায়াত কর্মীরা।
একটি ভিডিওতে দেখা যায় শিশিরকে রাস্তায় ফেলে একদল জামায়াত কর্মী তাকে ক্রমাগত লাথি দিচ্ছেন। এর আগে দেওয়া হয় কিল ঘুষি।
পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
শিশিরকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন অন্যরাও। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা সংবাদকর্মীদের বাঁচাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, হামলাকারীদেরকেও কিছু বলেনি।
জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে নজরে এসেছে। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই হামলার বিষয়ে জানতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে প্রশ্ন পাঠালেও জবাব আসেনি।


