শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ৭টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি হতে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এসব কথা জানান।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের ১ম অধিবেশনে পাস করা হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধসমূহের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।
তিনি সংসদকে জানান, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে এবং অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭, বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)।
মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নারী ও শিশুর চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনো-সামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন।
জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার ১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জনকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মনোসামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সারভাইভারদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার এবং বাল্যবিবাহ বন্ধসহ চাহিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও সংসদকে তিনি জানান।
একইসঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিত করে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


