ধরলার ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি, ঝুঁকিতে পাঁচ শতাধিক পরিবার

ধরলার ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি, ঝুঁকিতে পাঁচ শতাধিক পরিবার
একটু একটু করে লোকালয় গ্রাস করে চলেছে খরস্রোতা ধরলা। ছবি: ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চরগোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো টেকসই কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ধরলার স্রোতের তীব্রতায় প্রতিদিনই নদীতে গাছপালা, পাকা ঘরবাড়ি এবং জমিজমা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন, কেউ আবার অস্থায়ীভাবে অন্যের জমিতে বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

চরগোরকমন্ডলের ৬৫ বছর বয়সী আলা-বকস বলেন, ‘জীবনে পাঁচবার নদীতে ঘর হারিয়েছি। জমি নেই, মানুষের জমিতে ঘর তুলেই জীবন চালাচ্ছি। এখন আবার ধরলা ভাঙতে ভাঙতে আমার দরজায় এসে গেছে। শ্যালকের জমিতে ঘর সরাতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু টাকার অভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।’

একই গ্রামের জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নদী এখন বাড়ি থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে। যেকোনো মুহূর্তে সব ভেসে যেতে পারে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।’

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইতোমধ্যে জাবেদ আলী, মনসের আলী, আজিবর রহমান, আজগর আলীসহ অন্তত ৫০ জনের পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। চরগোরকমন্ডলের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘গত বর্ষায় তীব্র ভাঙনে অন্তত ৩০টি পরিবার ও প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা নদীগর্ভে চলে গেছে। সে সময় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ৫ থেকে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়, কিন্তু তা তেমন কাজে আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবারের ভাঙন আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক। এলাকায় একটি স্কুল, একটি মাদরাসা এবং পাঁচ শতাধিক পরিবার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষা জোরালোভাবে শুরু হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, ‘আমি এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। দুই-এক দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন জানানো হবে।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ নেই। পাউবোর কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘চরগোরকমন্ডলে প্রচুর পরিমাণে জিও ব্যাগ লাগবে। কিন্তু আমাদের স্টকে নেই। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad