দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্রমে ক্ষুণ্ন হয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়ছে।
শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে নস্যাৎ করে দেশে ফ্যাসিবাদের একটি নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। সরকারের নাকের ডগাতেই একটি চিহ্নিত মহল এই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণও মনে করে, সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। ফলে দেশ-বিদেশে সরকার তথা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়ে চলেছে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে রাজধানীতে দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলা এবং ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে একটি পুরোনো ও চিহ্নিত অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এসব ন্যাক্কারজনক হামলা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র বলেই আমরা মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিকামী দেশবাসীর পক্ষ থেকে এই ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে আমরা ধ্বংস হতে দেব না। এই অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায়ের যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতায় আবারও সব দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


