জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আফগানিস্তান পাকিস্তান বা ইরান নয়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে গর্বের বাংলাদেশ বানানো হবে। এসময় ভাতা দিয়ে বেকার তৈরির কারখানা নয় বরং প্রতিটি নারী পুরুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় রংপুর মহানগরীর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রিয় দেশ ও জাতিকে আর টুকরা টুকরা করতে চাই না। দেশ পরিচালনার সুযোগ হলে তিন শর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবগুলো দলকে নিয়ে ৫ বছর সরকার চালাব।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। যা আমরা পারব না, তা বলব না। যা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি শুধু তাই বলব।
বিএনপির বেকার ভাতা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকে বেকার ভাতা দিব না। বেকার ভাতা মানে হচ্ছে, বেকার কারখানা তৈরি করা। আমরা তা চাই না। দেশের প্রত্যেকটি সক্ষম নারী পুরুষের হাতকে আমরা শক্ত হাতে পরিণত করতে চাই। তাদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেকে বলে মা বোনদের কোন স্পেস থাকবে। মা বোন ছাড়া যেমন ঘর চলে না, তেমনি সমাজও চলে না। নারীদের কিছু কর্ম আছে যারা আপনি আমি কেউই করতে পারব না।’
যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটা সেক্টরে আমরা মা বোনদের নিয়ে কাজ করব। এখানে আমরা দেখব না, কোন নারী কোন ধর্মের। দেখব কোন মা বোনটি কোন যোগ্যতার। যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে তার হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখানে আমাদের প্রিয় দেশ ও জাতিকে আর টুকরা টুকরা করতে চাই না। আর বিভক্ত করতে চাই না। আমরা সাম্যের এবং ঐক্যের আওয়াজ নিয়ে আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন।’
ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনটা শর্ত মেনে তাদের নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা বলেন জামায়াত আমির।
শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম শর্ত হচ্ছে নিজেরা কোন দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দিব না। দ্বিতীয় শর্ত সমাজের সকল মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এতে কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে পারবেন না।বিচারবিভাগকে আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। তিন নম্বর শর্ত বিগত দিনের বস্তাপচা রাজনীতি আর আমরা চাই না। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে। দুর্নীতিবাজরা আর যাতে সমাজে চলাফেরা করতে না পারে। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য লড়াই করতে হবে। এই তিন শর্ত যারা মানবে। তাদের নিয়েই আমরা সরকার গঠন করতে চাই।’
তিস্তা নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নাই। যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, কথা দিচ্ছি উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম তিস্তায় কোদালের কোপ দিব। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। এই তিস্তাকে জীবন দেওয়ার মাধ্যমে পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা জীবন্ত করে তুলব। এখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যখনই বাস্তবায়ন হবে তখন অনেকগুলো উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে।’


