দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও তিনজন নিশ্চিত হামে এবং ছয়জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭৬ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৬৩ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৬ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮৫৬ এবং মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৬২ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৩ হাজার ৩৪৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৯৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১২৯ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩১১ এবং মোট মৃত্যু ৩১ জন। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকার পরেই রাজশাহীর অবস্থান; সেখানে এখন পর্যন্ত ৩ জন নিশ্চিত এবং ৭০ জন সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জাতীয় হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ।
বিভাগীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি টিকাদান সম্ভব হয়েছে। তবে সিটি কর্পোরেশনগুলোর চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ শতাংশ ও গাজীপুরে ১৩৫ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে এই হার মাত্র ৭৯ শতাংশ, যা বেশ উদ্বেগজনক।


