থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার পাঁচ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের যে সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন, সেটি সাজাভোগ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, থাকসিন ওই সময় ব্যাংককের পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের বিশেষ সুবিধায়িত কক্ষে ছিলেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, সে সময় তার গুরুতর কোনো অসুস্থতাও ছিল না এবং তিনি ইচ্ছাকৃত বেশি সময় হাসপাতালে কাটিয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতের রায় মেনে নিয়ে ফেসবুকে বিবৃতিতে দিয়েছেন থাকসিন। তিনি লেখেন, ‘আজ হয়তো আমার স্বাধীনতা নেই, তবে দেশের ও জনগণের কল্যাণে ভাবনার স্বাধীনতা এখনও আমার আছে।’
‘স্বাস্থ্য পরীক্ষার’ জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করা থাকসিন রায় ঘোষণার একদিন আগে সোমবার হঠাৎ করেই দেশে ফিরে আসেন। তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, থাকসিন দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ বাতিল করে আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। থাকসিন পলাতক নন।

এর আগে ২০২৩ সালে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড পান থাকসিন। তবে দেশটির রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন থাকসিনের সাজা কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনেন। কয়েকমাস সাজা কাটিয়ে বয়সের কারণে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তিও পান।
তবে থাকসিন বাস্তবে একদিনও কারাভোগ করেননি। কারণ সাজা শুরুর পরপরই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং টানা ছয় মাস সেখানে অবস্থান করেন।
সেসময়, থাকসিনের কারামুক্তি দেশজুড়ে অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, থাকসিনের সাজার সম্ভাব্য সব বিকল্পের মধ্যে জেলে ফেরত যাওয়া আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও, এটি জনমনে অন্যায়ের ‘ন্যায্য শাস্তি’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
থাকসিন ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি রাজনীতিতে নতুন করে প্রভাব বিস্তার করবেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর তার জনপ্রিয়তা আর আগের মতো ছিল না।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়াইয়ে নামেন থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
এরপর গত ২৯ আগস্ট থাই রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখোমুখি হয় প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবার। ‘নৈতিকতা ভঙ্গের’ অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করে আদালত।
গত জুনে থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত উত্তেজনার সময় নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জনগণের তোপের মুখে পড়েন পেতংতার্ন। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হন-সেনকে ‘চাচা’ সম্বোধন ও থাই সেনাবাহিনীর নেতিবাচক সমালোচনার অডিও রেকর্ড ফাঁস করেন খোদ হন-সেন। এ ঘটনায় জনগণের অনাস্থা চাপে পড়া পেতংতার্ন আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।


