২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয় এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা আমাদের আশ্বস্তও করেছিলেন যে, মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে কাঙিক্ষত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।’
এ অবস্থায় নবনির্বাচিত সরকারের কাছে সম্পাদক পরিষদ জোরালো আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকারের প্রত্যাশাও বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।

