দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলাম আগামীতে ক্ষমতায় যাবে।’
শুক্রবার চট্টগ্রামে আন্দোলনরত আট দলের উদ্যোগে লালদিঘি ময়দানে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনকি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও দেশের বৈষম্য দূর হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বনেদিদের দেশ আর থাকবে না। ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার পরিবর্তে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাক্স ভরার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গরিব-দুঃখী মানুষের রক্তে গড়া বাংলাদেশে যারা ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল তারা বৈষম্য দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন ‘কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মানবে না।’
এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে লালদিঘি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। দুপুর পৌনে ২টায় সমাবেশ শুরু হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। সমাবেশে পাঁচ দফা দাবির পক্ষে স্লোগানও দেওয়া হয়।
আট দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
এ ছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আব্দুর রহমান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, মুহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ।


