দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যমান দেশীয় গরুর জাতগুলো দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে আছে। তাই এসব জাতের অনন্য জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতের টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য অমূল্য সম্পদ।’
বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল সারিনায় জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা স্থানীয় জলবায়ু সহনশীল দেশীয় জাতের সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কেবল সংকর জাতের দিকে ঝুঁকলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দেশীয় জাত সংরক্ষণ অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হয়েও বাংলাদেশকে অনেক সময় অন্যায়ভাবে দায়ী করা হয়। কারণ, দেশের সেক্টরভিত্তিক তথ্য ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক।
এ সময় বক্তৃতা করেন এফএও-এর প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ দে দ্যু আয়াবাগাবো।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তৃতা করেন এফএও-এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর খান শহিদুল হক। ‘দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে এলডিডিপি প্রকল্পের অর্জন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন প্রকল্পের উপপরিচালক শাকিফ-উল-আজম।
কর্মশালায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


