পয়েন্ট হারালে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত–এমন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সমীকরণ মাথায় নিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডর। ম্যাচের একদম দ্বিতীয় মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। তবে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে লাতিন আমেরিকার দলটি সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে তুলে নিল দুর্দান্ত এক জয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম জার্মানিকে হারানোর স্বাদ পেল ইকুয়েডর, আর এই জয়ে ২০ বছর পর বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে পা রাখল সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে তারা। তবে হারলেও ই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে জার্মানি, তাদের পয়েন্ট ৬। রাতের অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে সমান ৬ পয়েন্ট পেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে আইভরি কোস্ট।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। একটি থ্রো-ইনের পর বাম প্রান্তের কর্নারের কাছ থেকে আলেকসান্দার পাভলোভিচের বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে যান ফ্লোরিয়ান ভিয়ের্তস। জটলার মধ্যে এই মিডফিল্ডারের ছোট পাস পেয়ে আর দেরি করেননি সানে, নিখুঁত নিচু শটে বল জালে জড়ান তিনি।
তবে খেলায় ফিরতে একদমই সময় নেয়নি ইকুয়েডর। নবম মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে নিলসন আঙ্গুলোর এক জোরালো শটে ১-১ সমতায় ফেরে দলটি। পাঁচ মিনিট পর জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার একটি শট পোস্টঘেঁষে বাইরে চলে যায়। সমতায় ফিরে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে ইকুয়েডর।
একের পর এক আক্রমণে তারা জার্মান ডিফেন্ডারদের কঠিন পরীক্ষা নিতে থাকে। ২৫ মিনিটে জার্মানির কাই হাভার্টজের একটি বিপজ্জনক হেড লাফিয়ে উঠে গ্লাভসবন্দি করেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হেরনান গালিন্দেস। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফেরার পর জামাল মুসিয়ালার দারুণ একটি আক্রমণ ইকুয়েডরের বক্সে রুখে দেন ডিফেন্ডার জোয়েল অর্দোনিয়েজ।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসে। ৬২ মিনিটে গোলের দেখা পেয়েই গিয়েছিল ইকুয়েডর, তবে বক্সের একটু বাইরে থেকে নেওয়া এনার ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত ভলি হাত দিয়ে ফিস্ট করে জার্মানিকে বাঁচিয়ে দেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার।
৭৬ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী এক অবিশ্বাস্য মিস করে বসেন জার্মানির লেরয় সানে। বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে ইকুয়েডর গোলকিপারকে একদম একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি, শট নেন সরাসরি গোলকিপারের শরীর বরাবর।
জার্মানির এই মিসের পরেই প্রতি আক্রমণে ওঠে ইকুয়েডর। কেভিন রদ্রিগেজ ভালো জায়গায় বল পেয়ে শট নেওয়ার আগেই কর্নার করে দেন জার্মান ডিফেন্ডার। আর সেই কর্নার থেকেই কেভিন রদ্রিগেজের চমৎকার অ্যাসিস্টে বল পেয়ে ৭৭ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড গনজালো প্লাতা। শেষ পর্যন্ত ওই ২-১ ব্যবধান ধরে রেখেই রূপকথার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর।


