চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ব্যাপী ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দুই বিশ্ব নেতা। তবে বৈঠক শেষে ওয়াশিংটন, বেইজিং দুই পক্ষই কোনো ধরনের চুক্তির কথা জানায়নি।
এসময় শি জিনপিংকে ‘খুবই ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বৈঠকের আমন্ত্রণ রাখায় ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘একজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। অনেক দিন ধরেই তিনি (শি) আমার বন্ধু। সত্যিই আমাদের দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক।
‘আমরা এরইমধ্যে অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, আর এখন আরও কিছু বিষয়ে একমত হব।’

অন্যদিকে শি বলেন, ‘আমরা সব সময় সব বিষয়ে হয়তো একমত হই না। সেটি খুবই স্বাভাবিক, কারণ আমাদের দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন।’
‘বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে, মাঝে মাঝে কিছু মতবিরোধ বা সংঘাত হওয়াও একেবারে স্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ঝড়ঝাপটা ও চ্যালেঞ্জের মুখে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি দিকনির্দেশক হিসেবে দুই দেশকে পথ দেখাব, সার্বিক পরিস্থিতি পরিচালনা করব, যেন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সহজ পথে অগ্রসর হয়।’
বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এবং ট্রাম্প শুরু থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। দুই দেশের সম্পর্ক সাধারণভাবে স্থিতিশীল রাখতে দুই নেতার মধ্যে তিনটি ফোনালাপও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শি বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা কুয়ালালামপুরে এক দফা বৈঠক করেছেন। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের প্রধান উদ্বেগগুলোর সমাধান নিয়ে মৌলিক ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের ওই বৈঠকই আজকে আমাদের বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করেছে।’
শি-এর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের মধ্য দিয়েই পূর্ব এশিয়ায় পাঁচদিনের সফর শেষ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকস্থল থেকেই তাকে বিদায় জানান শি। এরপর এয়ার ফোর্স বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।


