রাজশাহী ও নাটোর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বারনই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। নদী খননের পর পুনরায় দখল ও ভরাট ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। পাশাপাশি নদী ও খালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারনই নদী দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দূষণের শিকার। নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, তা ব্যবহার করলে কিংবা নদী পারাপারের সময় মানুষের শরীরে ঘা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নদীর পানিদূষণ রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নদীটি খনন ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।
নদী খননের পর আবারও দখল ও ভরাটের আশঙ্কা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে অনেক নদী ও খাল খননের পর সেগুলো আবার দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বারনই নদীর ক্ষেত্রে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। এ জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। এর সদস্যরা প্রতি ১৫ দিন পরপর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন। এ ছাড়া নদী ও খালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
প্রকল্পের কাজ তদারকি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে দুজন এবং জেলা প্রশাসনের দুজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রকল্পের অগ্রগতি ও নদীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
বারনই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে দূষণ ও ভরাট রোধে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী খননের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য কিংবা অন্য কোনো ময়লা ফেলে যাতে নদীটি আবার ভরাট করা না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীটি তার হারানো রূপ ফিরে পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দূষণ রোধ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


