আমরা দু-চারটি আসনের জন্য জোট করব না বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনা আসন ও টাকা অফার করেছিল। কিন্তু আমরা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করিনি। দু-চারটি আসনের জন্য কারও সঙ্গে জোট করব না। যদি দেশের প্রয়োজনে জোট করি, তা ন্যায্যতার বিচারে সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে হবে।’
শনিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিতে দলটি এ সভার আয়োজন করে।
এ সময় তিনি ওই আসনে গণঅধিকার পরিষদের জেলা সহসভাপতি নজরুল ইসলামকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
নুর বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় যদি কোনো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, তাহলে সেটি ইসি এবং সরকার বিবেচনা করবে। অন্যথায় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে।’
নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক আর এপ্রিলে হোক, গণঅধিকার এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। এমনকি দেশের প্রয়োজনে কোনো জোট করে, তাহলে যেসব জায়গায় জনসমর্থন আছে সেখানে হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা পুরোনো ফ্যাসিস্টদের মতো হুমকি-ধামকি ও আধিপত্য বিস্তারে দেশব্যাপী অপরাজনীতি কায়েম করতে চায়।’
‘তাদের মনে করাতে চাই, বিগত ১৬ বছরের অপশাসন মুহূর্তের মধ্যে চুরমার হয়ে গেছে। জনগণের প্রতিবাদে নেতারা সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছে। কেউ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের পরিণতি একই হবে। তাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন সকল রাজনৈতিক দলকে সংযত এবং সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু, নবীনগর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ূম প্রমুখ।


