দুদকের দাঁত এখনো তীক্ষ্ণ হয়নি: দুদক চেয়ারম্যান

দুদকের দাঁত এখনো তীক্ষ্ণ হয়নি: দুদক চেয়ারম্যান
দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাঁত যতটা তীক্ষ্ণ হবার দরকার ছিল, ততটা তীক্ষ্ণ এখনো হয়নি। নখ ও পুরোপুরি গজায়নি। মাঝামাঝি একটা পর্যায়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলে তিনি। সভায় এক সাংবাদিক প্রশ্ন কর এখনো নখ দন্তহীন বাঘ কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় দুদকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ ও সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতির তদন্ত বা অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত করতে আগামীতে কেউ চাপ প্রয়োগ করলে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘যারা চাপ প্রয়োগ করবে, আগামীতে তাদের নাম প্রকাশ করে দেব।’

দুদক চাপ অনুভব করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হন তার ওপরেই চাপ বেশি আসে। দুর্নীতিগ্রস্ত না হলে, ঘাড় সোজা থাকলে চাপ কম আসবে। আপনাকে যারা চাপ দেবে তারাও চিন্তা করবে চাপ দবে কি না। আগামী দিনগুলোতে যারা দুদকে যারা অন্যায় ভাবে চাপ প্রয়োগ করবে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।’

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার দুর্নীতি প্রতিরোধ করা দুদকের একার কাজ নয় বলে মনে করেন দুদক চেয়ারম্যান। দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশটির প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই দুর্নীতি নিরোধক। এর বাইরে তাদের আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠান আছে, যার কাজ হচ্ছে দেখাশোনা করা, খবরদারি করা। যেই দুর্নীতিগুলো অফিসে সমাপ্ত হওয়ার কথা; সেখানে অভ্যন্তরীণ অডিট হয়। এক্সটারনাল অডিট হয়, তারপরেও আমার কাছে আসে কী জন্য। আসার তো কোনো কারণই নেই।’

সঠিক সময়ে সুন্দর নির্বাচন হবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভোটে কালো টাকার দৌরাত্ম্য আগে দেখেছি। এবারও হয়তো হবে।

নির্বাচনী হলফনামা ইসির আগে চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন সম্পদ বিবরণী (হলফনামা) দাখিল করা হয়; দাখিল করা ও চূড়ান্ত করার মাঝামাঝি খুবই সময় খুবই কম। সরকার যদি ঘোষণা দিত, নির্বাচনী হলফনামা আগে দুদককে দিতে হবে; তাহলে আমরা একটা টাস্কফোর্স গঠন করতাম। আমরা হয়তো সবারটা করতে পারতাম না। এই দেশের সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। বড় বড় সন্দেহভাজনদের বিষয়ে আগে পরীক্ষা করে ইসিকে দিতে পারতাম।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় খুবই কম। আপনারা হুইসেল ব্লো করবেন, আমরা আমাদের শক্তি সামর্থ দিয় সেটা পরীক্ষা করার চেষ্টা করব।’

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হলফনামা পরীক্ষা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১০০ বার করব। কালো টাকার ব্যবহার কমাতে উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিবি বলেন, আমাদের সম্পদ খুব সীমাবদ্ধ। লোকবল সীমিত। আমরা ৫-৭ জনের একটা টিম করতে পারি কি না, সেটা দেখব।

উপদেষ্টাদের পিএস’র দুর্নীতির অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটা ফাইল ছিল। সেগুলোর অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পথে, কাজগুলো সম্পন্ন হয়নি। সম্পন্ন হলে সবাই জানবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর