প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কায় পুলিশ অ্যাকশনে যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের মতো অবস্থা সেখানে ছিল না। পুলিশের সঙ্গে সহিংসতার সম্ভাবনা ছিল। হঠাৎই সেখানে হামলা হয়েছে। আগে থেকে জানা থাকায় সংসদ ভবনের জনসমাগম এবং শাহবাগের গনজমায়েতকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা সেখানে ঘটেনি।’
সুনির্দিষ্ট যে ব্যক্তিদের উস্কানিতে মব ভায়োলেন্স হচ্ছে, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটছে তাদের ব্যাপারে কী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির জন্যে যেকোনো ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে , ভাইরাল করে দেওয়া যাচ্ছে। একটা গোষ্ঠি এই উসকানিটাকে নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সহিংসতার সুযোগটা নিচ্ছে।’
তিনি গণমাধ্যমকে মিথ্যা, ভুল তথ্যের অপপ্রচার রুখতে দ্বায়িত্বশীল আচরণ করার কথা বলেন।

শনাক্ত ৩১, গ্রেপ্তার ১৭
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভিডিও ফুটেজ দেখে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ১৭ জন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. নাইম (২৬), মো. আকাশ আহমেদ সাগর (২৮), মো. আব্দুল আহাদ (১৮), মো. বিপ্লব (২২), মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিনহাজ (২০), মো. জাহাঙ্গীর (২৮), মো. সোহেল রানা (২৪), মো. হাসান (২২), রাসেল ওরফে সাকিল (২৮), মো. আব্দুল বারেক শেখ ওরফে আলামিন (৩১), মো. রাশেদুল ইসলাম (২৫), মো. সোহেল রানা (২৭), শফিকুল ইসলাম (৩৪), মো. প্রান্ত সিকদার ওরফে ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, আবুল কাশেম, রাজু হোসাইন চাঁদ ও সাইদুর রহমান (২৫)।
মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো থেকে মামলা করা হলেও ডেইলি স্টার থেকে এখনও কোনো মামলা হয়নি। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে মামলা করবে।’
হামলার ঘটনায় পেনাল কোড, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন তিনি।


