প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
ঢাকার বাইরে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একযোগে এ কর্মসূচির সূচনা হবে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রোববার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে রাজধানী থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরে গিয়ে তিনি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং দলের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
পরে স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার সাহাপাড়া-বলরামপুর খাল পরিদর্শনের পর মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু খনন নয়, খালের পাড় সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।


