রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহতদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তারা। এ সময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্যও মারধরে আহত হন।
ঘটনার পর জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়া হয়। থানার সামনে তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নেয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় এ অবস্থা চলার পর তাদের শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানার ভেতরে তাদের মারধর করা হয়। এর আগে, জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কটুক্তির’ প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানায় অভিযোগ করতে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এবং ‘শিবিরবিরোধী’ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এক পর্যায়ে ডাকসু নেতা জুবায়ের ও মুসাদ্দিকসহ কয়েকজন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী থানায় গেলে তাদের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তারা থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন।

এদিকে, অভিযুক্ত ঢাবির শিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাবি করেছেন, ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি নিজেই থানায় গিয়েছিলেন। তবে ছাত্রদলের কর্মীরা অভিযোগ করেন, ওই পোস্টটি তিনিই দিয়েছেন।
ডাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিজান দাবি করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের থানায় অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ডাকসুর মুসাদ্দিক, এ বি জুবায়ের এবং মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা থানায় গেলে হামলার ঘটনা ঘটে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শাহবাগ থানার ওসির দরজার সামনে মুসাদ্দিককে মারধর করা হচ্ছে এবং থানা হাজতের সামনে জুবায়ের মারধরের শিকার হন।

পরবর্তীতে ‘নিরাপত্তা সংকট’ দেখিয়ে তাদের ধানমন্ডি মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন বলেও দেখা যায়।
রাত সোয়া ৯টার দিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ডাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে এলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজনা ছড়ায়।
রাত পৌনে ১০টার দিকে সাদিক কায়েমসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

মিছিল যাওয়ার সময় রোকেয়া হলের সামনে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাল্টা স্লোগান দেন। হাকিম চত্বর এলাকা থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ ঢাকা মেডিকেলে চলে যান।
এর পর শাহবাগ থানা এলাকা ও ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে শিবিরের ‘গুপ্ত’ কর্মী হিসেবে অভিযোগ করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, যদিও তাদের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।
এদিকে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্মসূচি পালন করছে বলে জানা গেছে।


