মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য এবিএম শহিদুল ইসলামের থাইল্যান্ড সফরে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি এআইটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩ সেপ্টেম্বর অফিস আদেশে উপাচার্যের থাইল্যান্ড সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন অনুযায়ী তিনি ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের সফরে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ব্যাংককের একটি হোটেল থেকে রওনা হয়ে এআইটি ক্যাম্পাসে যান উপাচার্য। সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত এআইটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয় এবং উন্নয়ন ও বহিরাগত সম্পর্ক কার্যালয়ের পরিচালক সুমানা শ্রেষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয়ের সমন্বয়ক ইন্দ্র কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভবিষ্যৎ একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এআইটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, গবেষণা কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তিনি ধারণা নেন।
এরপর সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এআইটির ইউনুস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফয়েজ শাহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও স্বাগত পর্বে অংশ নেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্যবস্থাপনা বিদ্যালয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর দুপুর দেড়টায় অধ্যাপক জাবেদের সঙ্গে এবং বেলা ২টায় কে করিম ও জাকিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
সফরকালে এআইটির সঙ্গে মাভাবিপ্রবির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথভাবে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে এআইটির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এআইটির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে এলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। মাভাবিপ্রবির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে এআইটি কর্তৃপক্ষও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপাচার্যের এই সফরের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এআইটির সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মাভাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


