বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি জানান, শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে থাকবে জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলো। যেসব শিক্ষার্থী এই ভাষাগুলো রপ্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইবেন, তাঁদের জন্যই এই ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
বিদেশে পাড়ি জমানো মেধাবীদের দেশমুখী করার লক্ষ্যে নতুন ভাবনাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রেইন ড্রেইনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছি।’ বিদেশে অবস্থানরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বাজেট প্রস্তাবে। পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিক্সকে উন্নয়নের মূল হাতিয়ার ধরে এগোতে চায় সরকার। স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষায় এআই অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও বাজেটে স্থান পেয়েছে।


