পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বাজারের পাশে সরকারি খাসজমিতে অবস্থিত ঈদগাহ মাঠের দীর্ঘদিনের বিরোধ অবশেষে নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদগাহ মাঠের নতুন নামকরণও করা হয়েছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের উদ্যোগে দুই গ্রামবাসীর মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আটলঙ্কা ও বন্যাগাড়ি গ্রামের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন থেকে এই মাঠের নাম হবে ‘হজরত শাহজালাল (রহ.) ঈদগাহ ময়দান’। ঈদগাহ পরিচালনার জন্য ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি ও ক্যাশিয়ারসহ ১৪ জন থাকবেন আটলঙ্কা গ্রামের এবং সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজন থাকবেন বন্যাগাড়ি গ্রামের।
চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলঙ্কা গ্রামের এই ঈদগাহ মাঠের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ, মামলা এবং আটলঙ্কা বাজারে থাকা বন্যাগাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমনকি গত ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই গ্রামের মানুষ পুলিশি পাহারায় আলাদাভাবে আদায় করেছিলেন। পরবর্তীতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই মাঠ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন।
ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম কালু, সেলিম রেজা, মাহমুদুল আলমসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও বলেন, ‘দুই গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। এখন থেকে তারা এক মাঠে নামাজ আদায় করবেন। আশা করছি আর কোনো বিরোধ থাকবে না।’
তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মেটাতে ইউএনও এবং ওসি বারবার চেষ্টা করলেও সমাধান হচ্ছিল না। বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আমরা বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। তারা লিখিত দিয়েছেন। এই সমাধানে দুই গ্রামের মানুষই খুশি।’


