তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফলপ্রসূ বৈঠকের পর যৌথভাবে এই জরিপ সম্পন্ন করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। রোববার পানিসম্পদমন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ মেটাতে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবে রূপ দেওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে চীনের কারিগরি সহায়তায় যৌথভাবে সম্ভাব্যতা জরিপটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
চলতি বাজেটেই যেন এর কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। তিস্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য নদীর উন্নয়নেও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিস্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন।
এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে স্টাডি কমপ্লিট করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খুব শিগগির এই পরিকল্পনা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সাতবার চীন সফর করায় এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। চীন এবং বাংলাদেশ উভয় দেশই এই ধারাবাহিক ও উন্নত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় ও সম্মান করে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বের হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষে চীন পৌঁছান। চার দিনের চীন সফরের প্রথম দুই দিন তিনি ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে রাজধানী বেইজিংয়ে আসেন।
বেইজিং সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে আরও উপস্থিত আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এ কে এম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন।


