রংপুর-৪ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, তিস্তা নদী যেভাবে এই অঞ্চলে সংকট তৈরি করেছে, সেখানে সম্ভাবনা তৈরি করে উন্নয়নের পথ খুলে দিতে চান তিনি। নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের সভ্যতার ইতিহাস নদীকেন্দ্রিক। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদী সংকট তৈরি করেছে। আমরা নদীকে ঘিরে সম্ভাবনা তৈরি করতে চাই। সে কারণে তিস্তা পাড়ে ইশতেহার ঘোষণা করছি। উত্তরের লাইফ লাইন তিস্তাকে সম্ভাবনার মাধ্যমে উন্নয়নের দুয়ার খুলে দেওয়া হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়নের সূচনা করতে চাই।’
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক আবু হাসান চঞ্চল, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রেজা, কাউনিয়া উপজেলা আমির আব্দুস সালাম, সেক্রেটারি ওমর ফারুক, কাউনিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
আখতার হোসেন সরকারি বরাদ্দের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নের সামনে বরাদ্দপত্র উন্মুক্তকরণ, নরমাল ডেলিভারি সেন্টার স্থাপন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় কুইক রেসপন্স টিম, কর্মসংস্থান তৈরিতে ইপিজেড, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিসহ দশটি সেক্টরে ৪৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিদ্যমান রেললাইন সংস্কার করে ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন বৃদ্ধি এবং প্রত্যেকটি রাস্তায় চলাচল নিশ্চিত করতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি সব কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আখতার বলেন, ‘কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পরপর পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা করা হবে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রেসপন্স টিম গঠন এবং সরকারি বরাদ্দ স্বচ্ছভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বরাদ্দপত্র উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা হবে।’
তিনি জানান, প্রশাসনিক, আইনি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জনসেবা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ইশতেহারে চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবসার পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হয়। নারীদের জন্য পাবলিক প্লেসে শৌচাগার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা ভিত্তিক বার্ষিক বৃত্তি ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে বলে জানান আখতার। একই সঙ্গে পীরগাছা, কাউনিয়া ও হারাগাছের সরকারি হাসপাতালগুলোকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
দলিত হরিদাস, রবিদাস, সাঁওতাল সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া এবং নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয় ইশতেহারে।
আখতার বলেন, ‘পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পাট চাষ বৃদ্ধি করা হবে। আলু সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বিদেশে রপ্তানির বন্দোবস্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পানি ছাড়ার আগে ভারতকে অবহিত করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে।’ চর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য আলাদা চর মন্ত্রণালয় গঠনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহার পাঠের সময় পেছনে ছিল জীর্ণশীর্ণ হয়ে আসা তিস্তা রেলওয়ে সেতু। ঘোষণার মুহূর্তে ওই সেতু দিয়ে দুটি ট্রেন চলে যাওয়ার দৃশ্য উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।


