তিস্তায় পাহাড়ি ঢল, লালমনিরহাটে পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার

তিস্তায় পাহাড়ি ঢল, লালমনিরহাটে পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার
লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে তিস্তা নদীতে। এতে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে কাঁচা-পাকা সড়ক, বাদাম, সবজিসহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, রোববার রাতে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার তা কিছুটা কমেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্যারাজ এলাকায় পানি কমলেও ভাটির নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ, হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্নাও বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, নদীর পানি বাড়ায় চরের বাদাম ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িতে পানি ঢুকেছে, এমনকি বাড়িতে যাওয়ার সড়কও ডুবে গেছে।

নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদের বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়তে হয়। নদী খনন এবং স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া এ দুর্ভোগ দূর হবে না, বলে তারা মনে করেন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি ওঠানামা করছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad