ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় এক নারীকে পুলিশে হস্তান্তর করেছেন চিকিৎসকরা। ওই নারীর নাম ফাহিয়া আক্তার হিয়া (২৬)।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের ২১২ নম্বর গাইনি ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটার কক্ষের গেটের সামনে মনি খাতুন নামে এক নারীর স্বজনরা ভিড় করছিলেন। তখন সেখানকার দুই নারী চিকিৎসক তাদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। তবে রোগীর স্বজনরা সেখান থেকে সরতে অস্বীকৃতি জানান। চিকিৎসকরা তাদের জোর করে সরিয়ে দিতে চাইলে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন রোগীর ভাবি ফাহিয়া আক্তার (২৬)।
পরে সেখানকার আনসার সদস্যরা চিকিৎসকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ওই নারীকে আটক করে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে শাহবাগ থানা পুলিশ।
আটক নারীর স্বামী শামীম হোসাইন জানান, তাদের বাড়ি সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায়। তার ছোট বোন মনি খাতুনকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে ওয়ার্ডের সামনে রোগী ও তার স্ত্রী ফাহিয়াকে রেখে তিনি সন্তানকে খাবার খাওয়াতে বাইরে হোটেলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখেন, ওয়ার্ডের সামনে হট্টগোল হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, আয়ারা তার স্ত্রীকে মারধর করার চেষ্টা করছে।
তখন তিনি জানতে পারেন, চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদেরকে গেটের সামনে থেকে সরে যেতে বলার পর তর্ক করেছিলেন তার স্ত্রী। পরে ফোনে তার স্ত্রীর ভিডিও করা শুরু করলে তখন সেটি হাত দিয়ে বাধা দিয়েছিলেন ফাহিয়া। এতেই চিকিৎসকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান। আর অভিযোগ তোলেন, ফাহিয়া তাদের মারতে গিয়েছিল।
শামীম বলেন, ‘সব শোনার পর আমি নিজে ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছি। ফাহিয়াসহ আমার পরিবারের সবাই ঘটনার জন্য মাফ চেয়েছে। কিন্তু তারা মাফ করেনি। আমার স্ত্রীকে পুলিশে দিয়েছে। এখন হাসপাতালে রোগীর জন্য দৌড়াব, নাকি থানায় দৌড়াব কিছুই বুঝতে পারছি না।’


