অবশেষে আলাদা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সাতটি কলেজ। সাত কলেজের সব দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে সরকারি সাত কলেজের সকল প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক দায়-দায়িত্ব এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য, ছবি ও ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা বাবদ ফি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে অন্তবর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এসব তথ্য ও দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।
আর এর মাধ্যমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি সাত কলেজের সম্মানজনক পৃথকীকরণের কাজ চূড়ান্তভাবে শেষ হলো।
২০১৭ সালে ঢাকার সাতটি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এই কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।
অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেশনজট, পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়া, শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট, সার্টিফিকেট পেতে বিড়ম্বনাসহ নানা জটিলতায় পড়েন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে অধিভুক্তি বাতিল করে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা, জড়িয়েছেন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হলো সাত কলেজ।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাগণ এবং কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।


