ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা করা হবে। সেই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা সংরক্ষণের প্রমাণ মিললে তাকে হল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন।
সোমবার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল প্রভোস্ট অফিস থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হলপ্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা গেলে সরকার প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫০/- (পঞ্চাশ) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০/- (তিনশত) টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।’
‘এছাড়া ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন বা অন্য কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন বা সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে হল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
হল প্রাঙ্গণে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।
তবে এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের জিএস খালেদ হাসান। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে প্রশাসন কোনো আলোচনা করেনি, আমি নিজেও এই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত না।’
অবশ্য হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ জানালেন, হল সংসদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ শিবির সমর্থিত, তবে তিনি নির্বাচন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে জিএস খালেদ হাসান গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত হলেও নির্বাচন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই।
আহসান হাবিব বলেন, ‘হলের ভেতরে ধূমপান নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি মূলত অধিকাংশ অধূমপায়ী শিক্ষার্থীর অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে হল সংসদ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে, তারপর প্রশাসন দেশীয় আইন অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা কার্যকর করে।’
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি ধূমপায়ী শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে করিডোর, অতিথিকক্ষ বা দোকানের মতো উন্মুক্ত ও সাধারণ স্থানে ধূমপান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিরত থাকবেন।’


