ঢাকা মেডিকেলে শিশুর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ঢাকা মেডিকেলে শিশুর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ মাস বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় নার্সদের বিরুদ্ধে ওষুধের ওভারডোজ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার মা। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার দাবি করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিশুর মা ফাতেমা বেগম নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রথমে ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে শিশুটিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফাতেমা বেগম জানান, ঢাকা মেডিকেলে চার দিন ভর্তি থাকলেও তার সন্তানের সঠিক রোগ নির্ণয় করা হয়নি। সেখানে দায়িত্বরতরা কেবল ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ার কথা বলেছিলেন। শিশুটির শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও সেখানে মজুত থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

চিকিৎসার বিষয়ে ফাতেমা বেগম আরও জানান, তার সন্তানকে ১২০ পাওয়ারের ওষুধ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নার্সরা তাকে ২৫০ পাওয়ারের ডোজ দিয়ে দেন। পরবর্তীতে চিকিৎসক এসে জানান, এই মাত্রার ওষুধ শিশুটির জন্য চলবে না।

নার্সদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ফাতেমা বেগম বলেন, শিশুটির জ্বর ও চোখ ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখে তিনি শুরুতেই হাম হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কর্তব্যরত নার্স বা কর্মীরা তার কথা গুরুত্ব দেননি। চার দিন পর সেখান থেকে শিশুটিকে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে শিশুটি ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ফাতেমা বেগম জানান, ঢাকা মেডিকেলের চার দিনের তুলনায় এখানে একদিনের চিকিৎসায় শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বর্তমানে শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়েছে এবং জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন প্রয়োজনে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হতে পারে।

সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে একা লড়াই করা এই মা জানান, ইতোমধ্যে ওষুধ ও আনুষঙ্গিক কাজে তার কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই খরচ বহন করা তার জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর (হাসপাতাল) মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী যদি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন, তবে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগ পেলে তারা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad