ঢাকা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সঠিকভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সবুজ প্যানেল। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন করেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্যানেলের আইনজীবীরা।
রোববার বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে দুই প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
সবুজ প্যানেলের সভাপতি পদের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিনের স্বাক্ষর করা আবেদনে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও ১০ জন কমিশনার এবং পরবর্তীতে আরও ১০০ জন আইনজীবীকে কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ঐতিহ্য অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্যানেলের সমান সংখ্যক কমিশনার ও কমিশনের সদস্য থাকে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের নীল প্যানেল থেকে কমিশনার নিয়োগ পান মোট আটজন। আর সবুজ প্যানেল থেকে কমিশনার নিয়োগ পান মাত্র তিনজন। যা স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট অন্তরায় এবং অবাস্তব বটে।
পরে সংবাদ সম্মেলনে এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে তারা ভোট দিতে পারবেন কি না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির জায়গাটা আমরা সঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছি না। এজন্যই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতের মতো দুই প্যানেল থেকে পাঁচজন পাঁচজন হলে এই আতঙ্ক তৈরির প্রশ্ন আসত না। বারবার লিখিত আকারে বলার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দেবেন। এটা কার পক্ষে যাবে, কার বিপক্ষে যাবে, তা নিয়ে আমরা কনসার্ন না। আমাদের কনসার্ন হলো, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে। কিন্তু ভোট হওয়ার আগেই ইলেকশন সিস্টেমে একটা মেকানিজম করার যে আগ্রহ বা দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে, আমরা মনে করি এই পরিবেশে ভোট হওয়া এবং ভোট গণনা করা দুটিই অন্তত ঝুঁকির।’
শিশির মনির বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের আমরা আহ্বান জানাব ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন। আপনারা আইনজীবীদের আস্থা অর্জন করে ভোটে অংশ নিন। যে যাকে মনে চায়, ভোট দিক। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’ এ সময় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট গণনা করার দাবিও জানান তিনি।


