রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলা থেকে ঢাকায় ফেরার স্বাভাবিক একটি যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবিতে প্রাণ হারান ২৪ বছর বয়সী মো. আশরাফুল ইসলাম। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে মাতম। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে তাদের বাড়ি।
কালুখালি উপজেলার বাসিন্দা আফসার শেখের মেজ ছেলে মো. আশরাফুল। ঢাকার মিরপুর ১০ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ওই এলকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনলাইন সেবার কাজ করতেন তিনি। ঈদ করতে রাজবাড়ীতে নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে বুধবার ফিরছিলেন কর্মস্থলে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।
আশরাফুলের বড় ভাই মো. কামরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই বছর খানেক আগে বিদেশ থেকে দেশে আসছে বিয়ের জন্য, বিয়ের পরে আর বিদেশে যায়নি। ঢাকায় এক কোম্পানিতে চাকরি নেয়। এক বছরের মধ্যেই তার বউ বিধবা হয়ে গেল।’
বুধবার দুপুরে শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল আশরাফুলের। সেসময় তিনি তার বাবাকে জানিয়েছিলেন, এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত শেষে ঢাকার বাসে উঠছেন। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয় নেই।
সেই শেষ কথাটাই বারবার মনে করে ভেঙে পড়ছেন তার বাবা আফসার শেখ। তিনি বলেন, ‘আমার পোলাটা আমারে রাইখেই চলে গেলো রে। আমার বাপের সঙ্গে ওইটাই শেষ কথা হইছিল।’ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করছিলেন তিনি।
বছরখানেক আগে বিয়ে করেছিলেন আশরাফুল। তাদের কোনো সন্তান নেই। স্বামীকে হারিয়ে তার স্ত্রী বাকরুদ্ধ—শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী তিন ভাইয়ের মধ্যে আশরাফুল ছিলেন মেজ। নিম্নমধ্যবিত্ত এই পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন তিনি। বড় ভাই আর তার আয়েই চলত সংসার। পরিবারে অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এভাবে অকালে চলে যাওয়ার ঘটনায় আর্থিকভাবেও পরিবারটি ভেঙে পড়েছে।
কালুখালির নিহতের পরিবারের ভেতর এখন শুধু কান্না আর নিঃশব্দ শূন্যতা। বাড়িতে নেমে এসেছে বেদনার গাঢ় গভীর অন্ধকার। একটি জীবনের হঠাৎ থেমে যাওয়া, একটি পরিবারের ভেঙে পড়া স্বপ্ন আর অপেক্ষার অবসানহীন যন্ত্রণা যেন ছড়িয়ে আছে চারদিকে।
বুধবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার তথ্যমতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


