গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৬৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নতুন একজনকে নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮ জনে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ হাজার ৭৪৩ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি মেহেরপুরের ৩৫ বছর বয়সী এক পুরুষ, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৭ জন। বরিশালে ১৫৭ জন, ঢাকা বিভাগে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৭৮, রাজশাহীতে ৫৬, রংপুরে ৩৬ এবং খুলনায় ৩৩ জন।
এ বছর সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৯৭ জনে, যা জুলাইয়ের ১০ হাজার ৬৮৪ জনকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে। ধাপে ধাপে এ প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। মার্চে যেখানে ভর্তি ছিল ৩৩৬ জন, সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ১৩ হাজারে পৌঁছেছে।
মৃত্যুর দিক থেকেও ভয়াবহ মাস সেপ্টেম্বর। এ মাসে মারা গেছেন ৬৬ জন। এর আগে জুলাইয়ে ৪১ এবং আগস্টে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৬২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে ৭৬০ জন ঢাকায় এবং ১ হাজার ৩০০ জন ঢাকার বাইরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল ২০২৩ সালে; সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যায় ১ হাজার ৭০৫ জন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, এখনো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের মৌসুম চলছে।


