ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনের ওপর পুলিশের মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনাসহ সারাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে ডিসি মাসুদসহ হেনস্তাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালে ডিসি মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ মোট ছয়টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি আমল ত্রিপুরা।
তিনি বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ দুই দর্শনার্থীর ওপর পুলিশ হামলা চালায়।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।
নাঈম উদ্দিনের বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে নৃবিজ্ঞান বিভাগ’ ব্যানারে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগ থানা ঘেরাও করে। সেখান থেকে তিন দফা দাবির উপস্থাপন করে আন্দোলনকারীরা। দাবি গুলোর সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সঙ্গে তারা আরও ছয় দফা দাবি ঘোষণা করে।
নিজের ‘আওতাবহির্ভূত’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবিধানবিরোধী’ বক্তব্য দিয়ে পুলিশি হয়রানির প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া। ‘মাদকবিরোধী’ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে ‘হয়রানি বন্ধ’ করা এবং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়া।
পার্ক ও উদ্যানে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত ও আড্ডা দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।


