তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সেবা কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন জোরদার করা প্রয়োজন।
রোববার ঢাকার ডিআরইউ শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োজন হলেও বারবার মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের কারণে সেই জ্ঞান গড়ে ওঠার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আজ একটি মন্ত্রণালয়, কাল আরেকটি মন্ত্রণালয়-এভাবে দায়িত্ব বদল হলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।’
কিছু মন্ত্রণালয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য, যা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয় না, ফলে নানা ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, যোগ করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা নয়, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও যদি মানুষ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্ম তা মেনে নেবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা নানা কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত সেবা দিতে হলে সরকারের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকিসহ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিরাপদভাবে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
এজন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় সংখ্যক প্রযুক্তিবিদকে জনবল কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তিনি শুনছেন এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। শিগগিরই সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি বলেন।
ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়েছেন তিনি। এটি তথ্য মন্ত্রণালয় নাকি শ্রম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার-তা স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি এলোমেলো হয়ে আছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়কে যুগোপযোগীভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। ক্রাইম বিটের সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো তালিকাবদ্ধ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন সোহেল, ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পুজা কুমারী ঝাঁ এবং সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা ও কনস্যুলার) হিউ কং সিয়াং। ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।


