ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে সাত জন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি চার নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে একজন নারী, যা শতকরা ২৫ ভাগ।
তবে এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৬২ জন, যা মোট প্রার্থীর ১৩ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই, ভোটারের ৪৮ শতাংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম।
নির্বাচিত নারী প্রার্থীদের মধ্যে তিন জন সম্পাদকীয় পদে এবং চার জন সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন। শীর্ষ পদগুলোতে কোনো নারী প্রার্থী নেই।

এইবারের ডাকসু নির্বাচনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ‘সাইবার বুলিং’ ও হেনস্তার কারণে নারী নেতৃত্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি বলে একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। আর নির্বাচিত প্রার্থীরা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।
১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলায় আহত সানজিদা আহমেদ তন্বী নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১,৭৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তন্বীর প্রার্থীতা ঘোষণার পর তাঁর ‘সম্মানার্থে’ বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ ওই পদে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
অপরদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমা ১০,৬৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের কোনো স্টেক ছিল না’ এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন। তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার বুলিং করার একাধিক অভিযোগ তুলেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল।
এই প্যানেলের কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক প্রার্থী উম্মে ছালমা ৯,৯২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। একই প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিনের স্ত্রী হওয়ায় তারা ডাকসু নির্বাচনের একমাত্র যুগল হিসেবে আলোচনায় এসেছেন।
বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৪,৯০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হেমা চাকমা। তিনি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট শাখার সাংস্কৃতিক উপ-সম্পাদক ছিলেন।

‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ১০,০৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন সাকিবুর নাহার তামান্না। তিনি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন তার প্রচারণা বোর্ডে ছবি বিকৃত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তামান্না নিরুৎসাহিত না হয়ে সেই ভাঙা ছবিটিকে নিজের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আলোচনায় আসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী।
নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫,৭৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন মোছা আফসানা আক্তার। তিনি ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।উল্লেখ্য, আফসানা ঢাবি ছাত্রী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক।
নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মা উসওয়াতুল রাফিয়া ৪,২০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নির্বাচনের আগে তিনি অভিনব কায়দায় প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। তার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ মন্দ হলেও ব্যালট ৩২ একেবারে উল্টো।’
এর আগের ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৫ টি পদে মোট ছয় ৬ নারী জন নারী প্রার্থী জয়যুক্ত হন।
২০১৯ সালের নির্বাচনে মোট জন নির্বাচিত নারী প্রার্থী হলেন– কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি এবং সদস্য সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভিন, নিপু ইসলাম তন্বী, তিলোত্তমা শিকদার।


