ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান। ডাকসুর ভোটে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘ব্যালটকে ভোট গ্রহণের উপযোগী করতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয় এবং এসব ধাপ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।’
রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে এসব কথা বলেন ঢাবি উপাচার্য।
তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোটের আগে দ্রুত কাজ শেষ করতে একই টেন্ডারের অধীনে আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠানই সময় স্বল্পতার কারণে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপায়। যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তারা তাৎক্ষনিকভাবে অবহিত করেনি।’

নিয়াজ আহমদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়। প্রিন্টিং, কাটিং, প্রি-স্ক্যানসহ সব প্রক্রিয়া শেষে ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য হয়। বাকি ব্যালট প্রচলিত নিয়মে ধ্বংস করা হয়। ভেন্ডর তাদের মূল অফিসে কাটিং ও প্রি-স্ক্যান শেষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে প্যাকেট সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরবরাহ করেছে।
‘শুধু ব্যালট ছাপালেই তা ভোটের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। ছাপার পর কাটিং, নিরাপত্তা কোড, প্রি-স্ক্যান, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর দেওয়ার পরই ব্যালট বৈধ হয়’, বলেও মন্তব্য করেন ঢাবি উপাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ডাকসু নির্বাচনি কার্যাদেশ অনুযায়ী দুই লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছিল। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। প্রত্যেকে ছয়টি করে ব্যালট পেয়েছেন। মোট ভোট দেন ২৯ হাজার ৮২১ জন ভোটার এবং এতে এক লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬টি ব্যালট ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ৬০ হাজার ৩১৮টি ব্যালট নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ৪৮টি অভিযোগের সবই নিষ্পত্তি করা হয়েছে জানিয়ে ভিসি আরো বলেন, ‘এর মধ্যে ১৬টি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৬৯ ধারায় ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়ে সমাধান করা হয়েছে।’

ভোট দেওয়া ভোটারদের সিসিটিভি ফুটেজ ও তালিকা প্রকাশের দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘কোনো প্রার্থী নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার ফুটেজ দেখতে চাইলে বা ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে চাইলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বা মনোনীত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সেসব দেখা যাবে।’
‘কিছু মহল নির্বাচন শেষে সময় পেরিয়ে গিয়ে নানাভাবে প্রশ্ন তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে’ বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন উপাচার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সব নিয়ম ও নিরাপত্তা মেনে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’


