ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন আল-শারা

ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন আল-শারা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনে পা রাখেন তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা  রয়েছে। এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন আল-শারা। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর ওই সফরটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সিরিয় প্রেসিডেন্টের প্রথম সরকারি সফর।

অবশ্য গত মে মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেন আল-শারা। সে সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উত্থান ও বিস্তার রোধে সিরিয় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আল-শারা ওয়াশিংটনে পা রাখতেই সিরিয়াজুড়ে ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন আইএসআইএল সেলের বিরুদ্ধে ‘বড় পরিসরে অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সিরিয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পশ্চিমাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার নতুন পথ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনে আল শারার আগমন ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরেই সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ‘আইএসআইএল বা আইএসআইএস’ বিরোধী বৈশ্বিক জোটে যোগ দিতে পারে। আর এই সংগঠনের বিরুদ্ধে আল-শারা প্রশাসনের প্রকাশ্য অবস্থান সে ধারণাকে আরও পোক্ত করেছে।

আরও পড়ুন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এপি/ইউএনবি

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, আলেপ্পো, ইদলিব, হামা, হোমস ও দামেস্কে এরইমধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। এসব অভিযানে অন্তত ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও দামেস্কে একটি বিমানঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

আল-শারা তার এবারের সফরে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহে মনোযোগী হবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, টানা ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ২১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি

একসময় আল-কায়েদার সিরিয়ান শাখার নেতৃত্বে ছিলেন আল-শারা। তবে ১০ বছর আগে তার সংগঠন আইএসআইএল থেকে আলাদা হয়ে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে যাত্রা শুরু করে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে এইচটিএস আল-কায়েদার বিরুদ্ধেও লড়াই শুরু করে।

বাশার আল-আসাদ ক্ষমতায় থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় এইচটিএস-এর নাম ছিল। তবে গত জুলাইয়ে সংগঠনটির নাম এই তালিকা থেকে সরিয়ে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

এরইমধ্যে আহমেদ আল-শারার যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আল-শারার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন। একই প্রস্তাবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১৪ ভোটে গৃহীত হয়। তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়নি চীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad