টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ছুটি কাটাতে এসে স্বজন হারানো নারীর আহাজারি

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ছুটি কাটাতে এসে স্বজন হারানো নারীর আহাজারি
আগুনের সামনে এই নারীকে আহাজারি করতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে লাগা আগুনে হতাহতের পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে বারবার ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ বলে আহাজারি করতে দেখা যায়।

জানা গেছে, ওই নারী পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি একজন সাংবাদিকের বোন বলে জানা গেছে। তবে সাইফ তার কী সম্পর্কের ব্যক্তি এবং তিনি জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টুপটুপ রিসোর্টে লাগা আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই পর্যটক ছিলেন। এছাড়া আহত ৬ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রিসোর্টের কর্মচারী মোহাম্মদ সোহেল জানান, ঘটনার সময় রিসোর্টে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিস সূত্রে সেখানে ১৭ জন পর্যটক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুন লাগার সময় রিসোর্টের ছয় থেকে সাতটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। তাদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন। কাঠ ও বাঁশের তৈরি স্থাপনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকরা  ছুটতে থাকেন।

আরও পড়ুন

ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। পর্যটকদের বিস্তারিত তথ্য জানতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad