টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরীকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ৪ মে পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ আদেশ দেয়। এর আগে, সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন, আবুল হাসানসহ আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে, ১৯ এপ্রিল সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করেন তিনি। এরপর ২০ এপ্রিল প্রথম দিনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার জেরা শেষ হয়।
এ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। মাসরুরকে গুম-নির্যাতন ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী দায়ী নয় বলে দাবি করেন এ আইনজীবী। একইসঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাক্ষী নিজেই দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষী অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন, এমন দাবি করেন আমির হোসেন।
জবাবে সাক্ষী মাসরুর বলেন, ‘গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দিইনি।’
টিএফআই সেলে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় গত বছরের ২২ ডিসেসম্বর শেখ হাসিনা এবং বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আদালত। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই তালিকায় আছেন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল মো. কামরুল হাসান, কর্নেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
এ মামলার পলাতক সাত আসামি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর-রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।


