২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় ছয়জন নিহতের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।
রায়ের পরপরই, পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মালেক আদালত প্রাঙ্গণে আর্থিক লেনদেন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
হাজতখানায় নেওয়ার সময় আবদুল মালেক বলেন, এ মামলায় যারা টাকা দিয়েছে তাদের সাজা হয়েছে সাত-আট বছর। আমি গরীব মানুষ, টাকা দিতে পারিনি বলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার এই বক্তব্য রায় ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাংবাদিকদের সামনে আসে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে আবদুল মালেকসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুজনকে স্বল্প মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে।
রায় শোনার পর আবদুল মালেক কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছু সময়ের জন্য মূর্ছা যান। পরে তিনি দাবি করেন, আমি আগুন দিইনি। আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মামুন, কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল। এএসআই মনির আগুন দিয়েছে, তাকেই সাক্ষী বানানো হয়েছে। আল্লাহ বিচার করবেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার পরিবারের সদস্যরাও। আবদুল মালেকের বড় ভাই মোহাম্মদ গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এএসআই মনিরুল ইসলাম গাড়িতে আগুন দিয়েছেন, তবু তাকে সাক্ষী বানানো হয়েছে; কনস্টেবল জুয়েল আগুন দিয়েছেন। আমার ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন এবং মামলায় সাজা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি, বলেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহত হন। পরে একটি পুলিশভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
প্রসিকিউশনের বক্তব্যে বলা হয়, এই নৃশংস ঘটনার সময় অন্তত একজন ব্যক্তি জীবিত ছিলেন। তাকেও বাঁচতে দেওয়া হয়নি। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয় বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। এর আগের দিন একই এলাকায় আরও একজন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন। একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করে।


