নোয়াখালীর চাটখিলের এক বেদে পল্লীতে মাদকের আস্তানা নিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের সরকারি খাস জায়গায় গড়ে ওঠা বেদে পল্লীতে রোববার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাটখিল থানা পুলিশ।
এর আগে ‘সিসিটিভি ও এসি লাগিয়ে বেদে পল্লীতে ববিতার মাদক সাম্রাজ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে টাইমস অব বাংলাদেশ।
অভিযান শেষে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একাধিকবার এখানে অভিযান পরিচালনা করেছি ও মাদক উদ্ধার করেছি। মামলাও দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাও নিয়েছি এবং মাদক মামলায় আসামি আটক করে চালান দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো অপরাধীদের ধরে মামলা দেওয়া, আর জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক উদ্ধার অভিযান অতীতেও যেমন অব্যাহত ছিল, এখনো থাকবে।’
অভিযানের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই এসি খুলে ফেলা হয়। তবে ওই আস্তানা থেকে এক পিস সিসা, ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদি, একটি ইলেকট্রিক শক যন্ত্র এবং একটি সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই সিসিটিভি ক্যামেরাটি মূলত প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে পুলিশ বা কোনো মাদকবিরোধী টিম অভিযানে আসছে কি না, তা আগে থেকেই জানা যায়। এই অভিনব কৌশলের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ববিতার নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং অতি সম্প্রতি তাকে আটকও করা হয়েছিল। তবে ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে সিসিটিভি ও এসি লাগিয়ে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে আগে প্রশাসনের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।
এদিকে ববিতার এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ আস্তানা সম্পূর্ণ উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।


