গাজীপুরের টঙ্গীতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দেখতে যান তিনি। এসময় উপদেষ্টা বলেন, ‘দগ্ধদের যত ধরনের সাপোর্ট প্রয়োজন তা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হবে না। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
গত সোমবার টঙ্গীর সাহারা মার্কেটের একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। ওই আগুন নেভাতে গিয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের চারজন ফায়ার কর্মী ও কারখানার একজন কর্মচারী দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, পুরান ঢাকায় একাধিক কেমিক্যাল গোডাউনে দুর্ঘটনার পরে সেগুলো মুন্সিগঞ্জের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টঙ্গীর ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখন বার্ন ইনস্টিটিউটে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে।’
দগ্ধদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দগ্ধ রোগীদের দেশের বাইরে নিয়ে গেলে ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। এজন্য আমরা সমন্বিতভাবে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাঈম ৪২ শতাংশ, ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ ১০০ শতাংশ, ফায়ার ফাইটার মোঃ নূরুল হুদা ১০০ শতাংশ ও ফায়ার ফাইটার মোঃ জয় হাসান ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেণ।
তাছাড়া দুর্ঘটনায় আহত কেমিক্যাল গোডাউনের কর্মচারী আল আমিন বাবু ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনিও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক চিকিৎসকরা।


